ধর্ম

ফজরের নামাজ আদায় করার উপকার।

Shahriar Akash Khan

নামাজ ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজই প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরয।প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজেরই আল্লাহ তায়ালা বিশেষ কিছু ফজিলত দিয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম ফজরের সালাত। নামাজ কায়েম করো সূর্য ঢলে পড়ার পর থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত এবং কায়েম করো ফজরের নামাজ। নিশ্চয়ই ফজরের নামাজ উপস্থিতির সময়। দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা সবার জন্যই অবশ্য পালনীয় বা ফরজ ইবাদত। এর মধ্যে ফজর নামাজের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন, একদা আমরা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে ছিলাম। পূর্ণিমার চাঁদের প্রতি দৃষ্টি করে তিনি উপস্থিত সাহাবিদের বললেন, তোমরা আল্লাহতায়ালাকে এরূপ স্পষ্টভাবে কোনো রকম ভিড় ও কোলাহল ছাড়াই দেখতে পাবে, যেমন এই পূর্ণিমার চাঁদ দেখছ। কিন্তু এই নেয়ামত হাসিলের জন্য সূর্যোদয় এবং অস্তের পূর্ববর্তী নামাজদ্বয়ের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। -(বোখারি)

আসুন জেনে নিই ফজরের নামাজ আদায় করাই কি কি উপকার রয়েছে।

ফজর নামাজের ৮টি উপকার:-

(১). ফজরের নামাজে দাঁড়ানো, সারা রাত দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার সমান।

'যে ব্যক্তি জামায়াতের সাথে এশার নামাজ আদায় করলো, সে যেন অর্ধেক রাত জেগে নামাজ পড়লো। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতের সাথে আদায় করলো, সে যেন পুরো রাত জেগে নামাজ পড়লো।' (মুসলিম)

(২). যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ পড়বে, সে আল্লাহর জিম্মায় থাকবে। (মুসলিম)

(৩). ফজরের নামাজ কিয়ামতের দিন নূর হয়ে দেখা দিবে।

'যারা রাতের আঁধারে মসজিদের দিকে হেঁটে যায়, তাদেরকে কেয়ামতের দিন পরিপূর্ণ নূর প্রাপ্তির সুসংবাদ দাও।' (আবু দাউদ)

(৪). সরাসরি জান্নাত প্রাপ্তি

'যে ব্যক্তি দুই শীতল (নামাজ) পড়বে, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর দুই শীতল (নামাজ) হলো ফজর ও এশা।' (বুখারী)

(৫). রিজিকে বরকত আসবে

'আল্লামা ইবনুল কাইয়িম রহ. বলেছেন, সকালবেলার ঘুম ঘরে রিজিক আসতে বাধা দেয়। কেননা তখন রিজিক বন্টন করা হয়।'

(৬). ফজরের নামাজ পড়লে, দুনিয়া আখেরাতের সেরা বস্তু অর্জিত হয়ে যাবে।

'ফজরের দুই রাকাত নামাজ দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে, সবকিছুর চেয়ে শ্রেষ্ঠ।'

(৭). সরাসরি আল্লাহর দরবারে নিজের নাম আলোচিত হবে।

'তোমাদের কাছে পালাক্রমে দিনে ও রাতে ফেরেশতারা আসে। তারা আসর ও ফজরের সময় একত্রিত হয়। যারা রাতের কর্তব্যে ছিল ওপরে উঠে যায়। আল্লাহ তো সব জানেন, তবুও ফেরেশতাদেরকে প্রশ্ন করেন, আমার বান্দাদেরকে কেমন অবস্থায় রেখে এলে? ফেরেশতারা বলে, আমরা তাদের নামাজরত অবস্থায় রেখে এসেছি। যখন ছিলাম তখনও তারা নামাজরত অবস্থায় ছিল।' (বুখারী)

(৮). ফরজ নামাজ দিয়ে দিনটা শুরু করলে, পুরো দিনের কার্যক্রমের একটা বরকতম সূচনা হবে।

''হে আল্লাহ! আমার জন্যে, তার সকাল বেলায় বরকত দান করুন।" (তিরমিযী)

ট্যাগ

আরও পড়তে পারেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *