ধর্ম

জেনে নিন ৩০টা রোজার ফজিলত

Shahriar Akash Khan

রমজান মাস মুমিনের জীবনের সেরা মাস। জীবনের সব গোনাহ থেকে পরিত্রাণ ও পবিত্র হওয়ার সুবর্ণ সময়। রহমত-বরকতের বারিধারা নিয়ে হাজির হয় পবিত্র মাহে রমজান। গোনাহমুক্ত জীবন অর্জন করে নিজেকে জান্নাত উপযুক্তু করার আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘোষিত মাস রমজান। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে দামি ও গুরুত্বপূর্ণ মনে করা মুমিনের জন্য জরুরি। রমজান মাসের প্রতিটি ক্ষণ মানুষের আমলের সেরা সময়।

রমজানের আগমনে বিশ্বনবি অনেক আনন্দিত হতেন। সাহাবাদের উদ্দেশ্যে এভাবে ঘোষণা দিতেন বিশ্বনবি সাল্লাল্রাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-أتاكم رمضان شهر مبارك‘তোমাদের দরজায় বরকতময় মাস রমজান এসেছে।’তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআনের ঘোষণা দিয়ে এ মাসের বিশেষ ফজিলত বর্ণনা করতেন। আর তা ছিল এমন-হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা রাখা ফরজ (বাধ্যতামূলক) করা হয়েছে। যেভাবে তোমাদের আগের লোকদের (নবি-রাসুলের উম্মতের) ওপর ফরজ করা হয়েছিল। যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পার।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৩)

৩০ টা রোজার ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১ম রমজান; রোজাদারকে নবজাতকের মতো নিষ্পাপ করে দেওয়া হয়।

২য় রমজান; রোজাদারের মা-বাবাকে মাফ করে দেওয়া হয়।

৩য় রমজান; একজন ফেরেশতা আবারও রোজাদারের ক্ষমার ঘোষণা দেয়।

৪র্থ রমজান; রোজাদারকে আসমানী বড় বড় চার  কিতাবের বর্ণ সমান সাওয়াব দেওয়া হয়।

৫ম রমজান; মক্কা নগরীর মসজিদে হারামে নামাজ আদায়ের সাওয়াব দেওয়া হয়।

৬ষ্ঠ রমজান; ফেরেশতাদের সাথে ৭ম আকাশে অবস্থিত বাইতুল মামূর তাওয়াফের সাওয়াব প্রদান করা হয়।

৭ম রমজান; ফিরাউনের বিরুদ্ধে মূসা আঃ এর পক্ষে সহযোগিতা করার সমান সাওয়াব প্রদান করা হয়।

৮ম রমজান; রোজাদারের উপর হযরত ইব্রাহীম আঃ এর মতো রহমত বর্ষিত হয়।

৯ম রমজান; নবী-রাসূলদের সাথে দাঁড়িয়ে ইবাদতের সমান সাওয়াব দেওয়া হয়।

১০ম রমজান; রোজাদারকে উভয় জাহানের কল্যাণ দান করা হয়।

১১তম রমজান; রোজাদারের মৃত্যু নবজাতকের ন্যায় নিষ্পাপ নিশ্চিত হয়।

১২তম রমজান; হাশরের ময়দানে রোজাদারের চেহারা পূর্ণিমা চাঁদের মতো উজ্জ্বল করা হবে।

১৩তম রমজান; হাশরের ময়দানের সকল বিপদ থেকে নিরাপদ করা হবে।

১৪তম রমজান; হাশরের ময়দানে হিসাব-নিকাশ সহজ করা হবে।

১৫তম রমজান; সমস্ত ফেরেশতারা রোজাদারের জন্য দোয়া করে।

১৬তম রমজান; আল্লাহপাক রোজাদারকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করে।

১৭তম রমজান; একদিনের জন্য নবীগনের সমান সাওয়াব দেওয়া হবে।

১৮তম রমজান; রোজাদার এবং তার মা-বাবার প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টির সংবাদ দেওয়া হয়।

১৯তম রমজান; পৃথিবীর সকল পাথর কংকর ঢিলা টংকর রোজাদারের জন্য দোয়া করতে পারে।

২০তম রমজান; আল্লাহর পথে জীবন দানকারী শহীদের সমান সাওয়াব প্রদান করা হয়।

২১তম রমজান; রোজাদারদের জন্য জান্নাতে একটি উজ্জ্বল প্রাসাদ নির্মাণ করা হয়।

২২তম রমজান; হাশরের ময়দানের সকল চিন্তা থেকে মুক্ত করা হয়।

২৩তম রমজান; জান্নাতে রোজাদারদের জন্য একটি শহর নির্মাণ করা হয়।

২৪তম রমজান; রোজাদারদের যেকোনো ২৪টি দোয়া কবুল করা হয়।

২৫তম রমজান; কবরের শাস্তি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

২৬তম রমজান; ৪০ বছর সমান ইবাদতের সাওয়াব প্রদান করা হয়।

২৭তম রমজান; চোখের পলকে পুলসিরাত পার করে দেওয়া হয়।

২৮তম রমজান; জান্নাতের নেয়ামত দ্বিগুণ করা হয়।

২৯তম রমজান; একহাজার কবুল হজের সাওয়াব প্রদান করা হয়।

৩০তম রমজান; পুরা রমজানের ফজিলত দ্বিগুণ করা হয়।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের পবিত্র রমজান মাসের প্রতিটি রোজা রাখার তৌফিক দান করুন, এবং রমজান মাসে ভালো কাজ করার হেদায়েত দান করুন। (আমিন)

ট্যাগ

আরও পড়তে পারেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *