ধর্ম

রোজা আমাদের শরীরে কী কী ধরনের পরিবর্তন সাধিত করছে ?

প্রতি বছর কোটি কোটি মুসলমান সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকেন । গত কয়েক বছর ধরে উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতে রোজা হচ্ছে গ্রীষ্মকালে যার ফলে এসব দেশের মুসলিমদের রোজা রাখতে হচ্ছে প্রচন্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ ।

আসুন জেনে নেওয়া যাক মুসলিমরা যে একমাস ধরে রোজা রাখেন তা তাদের শরীরের উপর কী কী প্রভাব ফেলে ।

  • প্রথম প্রথম কয়েকদিন খুবই কষ্টকর :- মানুষ শেষ বার খাবার গ্রহণ করার ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত তাদের শরীরে তেমন কোন প্রভাব পড়তে দেখা যায় না , কেননা মানুষের পাকস্থলী খাবার হজম করতে এবং তার পুষ্টিগুণ শোষণ করতে কমপক্ষে ৮ ঘন্টা সময় নেয় । আর তাই ৮ ঘন্টা পর থেকে শরীর সঞ্চিত থাকে শক্তি গ্রহণ করতে থাকে যার ফলে মানুষের ওজন করতে সহায়তা হয় । এটি ডায়াবেটিসের মাত্রা কমিয়ে দেয় ।
  • ৩ থেকে ৭ রোজা শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে :- প্রথম কয়েক দিনের পর মানুষের শরীর রোজার জন্য অভ্যস্ত হয়ে ওঠে যার ফলে শরীরে থাকা চর্বি গলে রক্তের শর্করায় রূপান্তরিত হয় । যেহেতু আপনি দিনের বেলায় কোন কিছুই খাচ্ছেন না সেহেতু ইফতারের পরে আপনাকে প্রচুর পরিমাণ পানি খেতে হবে শরীরে পানিশূন্যতা রোধে ।
  • ৮ থেকে ১৫ রোজা শরীর রোজার জন্য অভ্যস্ত হয়ে ওঠে :- এ পর্যায়ে এসে আপনার শরীর ও মনে এক ধরনের ভালোলাগা আবির্ভূত হতে থাকবে , কেননা এতদিনে আপনার শরীর রোজার সঙ্গে মানিয়ে নিতে শুরু করেছে । সাধারনত আমরা দৈনিন্দন জীবনে অনেক ক্যালরিযুক্ত খাবার খেয়ে থাকি , যার ফলে আমাদের শরীর অনেক কাজ ঠিকমতো করতে পারেনা যেমন শরীর নিজেই নিজেকে সারিয়ে তুলতে পারে না । তাই যখন আমরা রোজায় থাকি তখন আমাদের শরীর অন্যান্য কাজের দিকে মনোযোগ দিতে পারে । এটি শরীরে সংক্রমণ রোধে প্রচুর পরিমাণ সহায়তা করে ।
  • ১৬ থেকে ৩০ রোজা ভারমুক্ত একটি শরীর :- রমজান মাসের শেষ ভাগে আপনার শরীর রোজার সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে নেবে । আপনার দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এক ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হবে , আপনার শরীর থেকে সমস্ত দূষিত পদার্থ বেরিয়ে গিয়ে শরীর যেন বিশুদ্ধ হয়ে উঠবে । এই সময় আপনার শরীর পূর্ণ ক্ষমতা ফিরে পাবে , আপনার স্মৃতিশক্তি অনেক উন্নতি ঘটবে এবং আপনার শরীর যেন পূর্ণ শক্তি ফিরে পাবে ।

রোজা যেমন আমাদের মাংসপেশিকে রক্ষা করছে তেমন আমাদের শরীরের ওজন কমাতেও সহায়তা করে । রোজায় থাকার মাধ্যমে আপনার শরীরে যে সকল দুর্বল কোষ রয়েছে তা ধ্বংস হয়ে যাবে যার ফলে আপনি অসুস্থতা থেকে রক্ষা পাবেন ।

ট্যাগ

আরও পড়তে পারেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *