আন্তর্জাতিক

সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধাচরণে উত্তাল মিয়ানমারের রাজপথ ।

সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে নজিরবিহীন বিক্ষোভ মিয়ানমারে‌ , দেশটির স্বাস্থ্য কর্মী ও আইনজীবীদের বিরোধিতার পরে এবার তাদের সাথে যোগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকগণ । তাদের একটাই দাবি আর কালবিলম্ব না করে যেন গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয় ।

এদিকে জান্তা সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরে অস্ত্র বিরতি চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার হুঁশিয়ারি দিয়েছে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো । মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর রক্তিম চক্ষু কে পরোয়া না করেই বিরোধিতার মিছিলটি বড় হয়ে চলেছে । গণতান্ত্রিক সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়ার কারণে রাজপথে নামতে শুরু করেছে সাধারণ জনগণ ।

শুরুতে ঘরে বসে ঘন্টা বাজিয়ে যে প্রতিবাদে শুরু হয়েছিল প্রথমে স্বাস্থ্যকর্মী চিকিৎসকদের সাথে এখন প্রতিবাদে যুক্ত হয়েছে আইনজীবী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষিকা গন । মিয়ানমারের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী গন বিক্ষোভ মিছিল সূচনা করেছে এবং তাদের দাবি মিয়ানমারের সামরিক শাসন কে প্রত্যাখ্যানের এছাড়াও অবিলম্বে ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সুচির সহ সকল রাজবন্দীদের মুক্তি দিতে হবে ।

আন্দোলনকারীরা মনে করেন :- মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক ধারার পথ আস্তে আস্তে সুদুরপ্রসারী হতে শুরু করেছিল কিন্তু তা রুদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে এখন , কিন্তু আমরা কখনই এমনটি হতে দেবো না সামরিক জান্তাকে সম্মানের সহিত ক্ষমতা হস্তান্তর করতেই হবে ।

তারা সামরিক শাসন মানতে নারাজ যার ফলশ্রুতিতে মিয়ানমারের সকল বিশ্ববিদ্যালয় কে সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে । বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ বলেন আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি যদি কোন সামরিক কর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক / শিক্ষিকা অথবা ছাত্র ছাত্রীদের উপর চড়াও হয় অথবা আক্রমণাত্মক মনোভাব প্রকাশ করে তাহলে আমরা একটাও পিছু হটবো শক্তভাবে প্রতিহত করব ।

বিভিন্ন পশ্চিমা গণমাধ্যম এর তথ্য মতে নেপিদো ইয়াঙ্গুন সহ বিভিন্ন অঞ্চলে এখন পর্যন্ত ১০০০ এর বেশি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে ।এছাড়াও মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মিয়ানমারের শান ও কাসীম জনগোষ্ঠীরা ।

এখন পর্যন্ত রাজপথে যে বিক্ষোভ মিছিল গুলো অনুষ্ঠিত হয়েছে তা প্রতিহত করতে সামরিক বাহিনীর কড়া কোন পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলো করা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে সামরিক বাহিনী , প্রথম ফেসবুক বন্ধ করে দেয়া হলেও পরক্ষনেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে টুইটার , এছাড়াও বেশ কিছু স্থানে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে ।

ট্যাগ

আরও পড়তে পারেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *