স্বাস্থ্য

মাইগ্রেন হওয়ার কারণ। মাইগ্রেন থেকে মুক্তির উপায়

যারা আছে মাইগ্রেন, সেই বুঝে এই ব্যাথার কষ্ট কতটা। মাইগ্রেন মাথা ব্যথার যে কোন এক পাশ থেকে শুরু হয়ে তা ক্রমশ বাড়তে থাকে। প্রচন্ড মাথা ব্যথার পাশাপাশি বমি বমি ভাবও দেখা দেয়। কারও কারও ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের সমস্যা একটানা কয়েক দিন পর্যন্ত চলে।

মাইগ্রেনের সমস্যা অনেক ক্ষেত্রে বংশগত। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বংশ পরম্পরায় এই সমস্যা প্রবাহিত হতে পারে। তবে কয়েকটি কারণ বা অভ্যাস রয়েছে যা মাইগ্রেনের সমস্যা বাড়িয়ে থাকে। এই কারণগুলো সম্পর্কে আগে থেকেই সতর্ক থাকতে পারলে মাইগ্রেন কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

এবার সেই অভ্যাস বা কারণগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক-

১. দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকলে মাইগ্রেনের ব্যথা মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। কারণ খালি পেটে থাকলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা তৈরি হয়, যা মাইগ্রেনের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এক্ষেত্রে পেট যাতে খালি না থাকে সে ব্যবস্থা নিতে হবে।

২. অতিরিক্ত মাত্রায় মিষ্টি খাবার রক্তে সুগারের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। তখন সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে শরীরে অতিরিক্ত ইনসুলিনের ক্ষরণ হতে থাকে। এর ফলে রক্তের সুগারের মাত্রা নামতে শুরু করে। এই তারতম্যের ফলে মাইগ্রেনের ব্যথা বেড়ে যায়। তাই এই রোগীদের মিষ্টি জাতীয় খাবার খেতে হবে সাবধানতার সঙ্গে।

৩. অতিরিক্ত রোদে দীর্ঘক্ষন ঘোরাঘুরির ফলে অনেক সময় মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হতে পারে। তাছাড়াও অস্বাভাবিক গরম, অতিরিক্ত আর্দ্রতা বা তাপমাত্রার তারতম্যে মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়ে। এগুলো মনে রেখেই আমাদেরকে অগ্রসর হতে হবে।

৪. অতিরিক্ত আওয়াজ বা হাই ভলিউমে গান শোনার কারনেও মাইগ্রেনের সমস্যা বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে কম ভলিউমে গান শোনার চেষ্টা করতে হবে।

৫. একাধিক গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে, যারা নিয়মিত ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় (যেমন কফি) খেতে অভ্যস্ত তারা হঠাৎ করে সেই অভ্যাস ছেড়ে দিলে মাইগ্রেনের সমস্যা মাথাচাড়া দিতে পারে। তাই আস্তে আস্তে ছাড়ার অভ্যাস করতে হবে।

৬. যারা একটানা দীর্ঘক্ষণ অতিরিক্ত চাপ নিয়ে কাজ করেন বা যাদের কাজের চাপে ঘুমো খাওয়া-দাওয়া নির্দিষ্ট সময় থাকে না, তাদের মাইগ্রেনে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এক্ষেত্রে সবকিছুর একটা রুটিন তৈরি করে নিতে হবে।

৭. যারা নিয়মিত মোটামুটি ৫ থেকে ৬ ঘন্টা করে ঘুমান, তারা যদি হঠাৎ করে একদিন ৯ থেকে ১০ ঘন্টা ঘুমিয়ে কাটান, সে ক্ষেত্রে তাদের মাইগ্রেনের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। তাই সব সময় নিয়ম ফলো করা উচিত।

ট্যাগ

আরও পড়তে পারেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *