স্বাস্থ্য

"মানুষের হার্টকে সুস্থ রাখতে জাদু জানে ছোট্ট এই জেব্রা ফিশ।"

যেন জাদু জানে আমাদের খালেবিলে, ধানক্ষেতে, পুকুরে, নদীতে থাকা জাদুকরী মাছটি। অনেকে মাছটির নাম জানেন আবার অনেকেই চেনেন না। এই মাছটির নাম হলো জেব্রা ফিশ, আমাদের কাছে এই মাছটি অঞ্জু নামে পরিচিত। এর শক্তি সম্পর্কে জানলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন।

মূলত উত্তর-পূর্ব ভারতের নদী, পুকুর, খাল-বিলে এই মাছগুলো পাওয়া যায়।

এ মাছের আকৃতি সাধারণত হাতের আঙ্গুলের মতো ও গায়ে ডোরাকাটা দাগের এই মাছটি ক্ষতবিক্ষত হওয়ার পরেও মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র, যকৃত, মেরুদন্ডসহ তার শরীরের প্রায় সবকটি অঙ্গকে নতুন করে গড়ে তুলতে পারে, যা কোন মানুষ কিংবা অন্য কোন স্তন্যপায়ী প্রাণীও পারে না‌।

ভারতের পুনের আগরকর রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ডেভেলপমেন্টাল বায়োলজি বিভাগের বিজ্ঞানী চিন্নয় পাত্রের তত্ত্বাবধানে আমাদের দুর্বল হয়ে পড়া হৃদযন্ত্রকে ফের জাগিয়ে তোলার এই জাদুকরী মাছটি কে খুঁজে বের করেছেন দেবাঞ্জন মুখোপাধ্যায় ও তার সহযোগীরা।

চিন্নয় ও দেবাঞ্জনসহ ১০ জনের গবেষকদল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিশ্বে এই প্রথম দেখালেন, একটি জিন জেব্রা ফিশের ক্ষত বিক্ষত অঙ্গকে পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করে। জিন টির নাম '-কানেকটিভ টিস্যু গ্রোথ ফ্যাক্টর (সিটিজিএফ)'। আরেকটি জিনের নাম হলো, '-সেলুলার কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক ফ্যাক্টর ২-এ।

এই গবেষণা থেকে বোঝা গেলো কেন মানুষ হার্ট অ্যাটাকের পর হৃদযন্ত্রকে আগের অবস্থানে ফিরে পাই না ও তৃতীয়বার হার্ট অ্যাটাকের পরেই অনিবার্য হয়ে যায় আমাদের মৃত্যু। আর কেনই বা জেব্রা ফিশের হৃদযন্ত্র বারবার ক্ষতবিক্ষত হয়েও পুনরুজ্জীবিত হয়ে উঠতে পারে নতুন হৃদযন্ত্রের মতো স্বাভাবিক।

গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে ব্রিটেন থেকে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল 'ডেভেলপমেন্ট-'এ।

গবেষণায় কেন বেছে নেয়া হলেও জেব্রা ফিশ কে ?

সাধারনত ২ থেকে ৩ বছর বেঁচে থাকে জেব্রা ফিশ। তাই মাত্র ৩ মাস বয়স হলে এই মাছ প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠে। গবেষণা কাজটি করা হয়েছে ৬ মাস বয়সি জেব্রফিশ নিয়ে । সেগুলো ছিল প্রাপ্তবয়স্ক জেব্রা ফিশ। হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা যেহেতু শিশুদের থেকে প্রাপ্ত বয়স্কদের বেশি, প্রবীনদের ক্ষেত্রে আরো বেশি তাই গবেষকরা প্রাপ্তবয়স্ক জেব্রফিশ নিয়ে কাজ করে চলেছে।

জেব্রা ফিশ নিয়ে কাজ করার একটা সুবিধা হলো, জন্মের ১০ থেকে ১৫ দিন বাইরে থেকেই তাদের হৃদযন্ত্র, যকৃত, শরীরের সব কয়টি অঙ্গ বিকশিত হওয়া আর তাদের কাজকর্ম চাক্ষুষ করা যায়। কিভাবে হৃদযন্ত্রের ভাল্ব তৈরী হচ্ছে তা দেখা যায়। একেবারে কোষের ভিতরে গিয়ে। আরেকটি সুবিধা হলো জেব্রা ফিশের বেশিরভাগ কার্যকারী জিনের (প্রাণী বা উদ্ভিদের অনেক জিন কার্যকরী থাকে না) মানুষ ও ইঁদুরের কার্যকারী জিনগুলোর খুব সাদৃশ্য রয়েছে। গত শতাব্দীর ৬-এর দশক থেকে গ্রাম বাংলার এই জাদুকরী মাছ টি নিয়ে বিদেশের শুরু হয় গবেষণা। এখন বিশ্বে প্রায় ১ হাজারটি ।

আরও পড়তে পারেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *