করোনা মহামারীসারাদেশ

দেশে আক্রান্তের সংখ্যা কমলেও মৃত্যুতে রেকর্ডসংখ্যক

প্রতিদিন করোনাভাইরাস পূর্বের থেকে আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে। প্রতিদিন বাড়ছে শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। দেশে গত ২৪ ঘন্টায় (গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) করোনাভাইরাসে নতুন করে আরও ৫ হাজার ৩৪৩ জন শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় দেশে রেকর্ডসংখ্যক ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ পর্যন্ত দেশে মোট ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৯৩৭ জনের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ৯ হাজার ৬৬১ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৭২ হাজার ৩৭৮ জন।

গতকাল শুক্রবার করোনায় ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আর ৭ হাজার ৪৬২ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিল।

গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নমুনা পরীক্ষাও হয়েছে ২৬ হাজার ৭৭ জনের। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ২৯ মার্চ বেশ কিছু বিধিনিষেধসহ ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। এর মধ্যে ঘরের বাইরে গেলে মাস্কের ব্যবহার অন্যতম। কিন্তু সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকলেও জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে এখনো উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই।

করোনাভাইরাস ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার কারণে সরকার দেশে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা করে। কিন্তু এক সপ্তাহের লকডাউনে মানুষের মধ্যে উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেছে। স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই সাধারণ মানুষের মধ্যে লক্ষ্য করা  যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে পরিপূর্ণ ভাবে দুই সপ্তাহ কঠোর ভাবে লকডাউন পালন করতে হবে।

করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে দেশে গত ২৭ জানুয়ারি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে গণহারে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

ট্যাগ

আরও পড়তে পারেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *