খুলনাসারাদেশ

সুন্দরবনে একের পর এক হত্যা করা হচ্ছে বাঘ ও অন্যান্য প্রাণী ।

দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে রয়েল বেঙ্গল টাইগার আছে প্রায় আড়াই হাজারের মত। এর মধ্যে বাংলাদেশ সুন্দরবনে রয়েছে ১১৪টি ও ভারতীয় সুন্দরবনে রয়েছে ৮৪টি। বাকি গুলো ভারতের অন্য বনাঞ্চলে এবং নেপাল ও ভুটানে রয়েছে । যুক্তরাজ্যের কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বেঙ্গল টাইগারের মধ্যে সুন্দরবনের বাঘ বৈচিত্র্যময় এবং পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতা বেশি।

তবে পুরো সুন্দরবন জুড়েয় রয়েছে চোরা শিকারিদের বিচরণ , যার ফলে মারা পড়ছে একের পর এক বাঘ , হরিণ সহ নানা বন্য প্রাণী । এবং এসব অপরাধের জন্য ধরাও পড়ছে অপরাধীরা তবে গবেষক গণ বলছে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে এখনো অনেক মূল হোতা । এবং অন্যান্য গ্রেফতারকৃত আসামি গণ আইনের ফাঁকফোকর দ্বারা বেরিয়ে যাওয়াই এসব অপতৎপরতা কমানো সম্ভব হচ্ছে না ।

তবে চোরা শিকারিদের গ্রেপ্তার করে সঠিক শাস্তি প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেছেন বন বিভাগ । সুন্দরবনের চলছে যেন বাঘ শিকারের এক মহা উৎসব , এমন হয়েছে এ যেন নিজেরে রাজ্যে নিজেয় অসহায় সুন্দর বনের রাজা রয়েল বেঙ্গল টাইগার ।

বন বিভাগের তথ্য মতে জলদস্যু , চোরা শিকারি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহ নানা কারণে ২০০১ - ২০২১ পর্যন্ত ৫৫ টি বাঘ হত্যা করা হয়েছে । এরমধ্যে বাঘের হাট অঞ্চলের ২৩ টি এবং খুলনা-সাতক্ষীরা অঞ্চলে ৩২ টি বাঘ হত্যা করা হয়েছে ।

কিছুদিন আগে ১৯ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে বাঘ এবং হরিণের চামড়া সহ ১১ জনকে আটকের পরে আবারও আলোচনায় মুখ্য বিষয় চোরাশিকারি ।

এখন পর্যন্ত সুন্দরবনের প্রতি ৭ কিলোমিটার এর জন্য ১ জন বনরক্ষী নিযুক্ত করে রেখেছে সরকার , যা খুবই অপ্রতুল একটি বিষয় । সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হলে এপ্রণের সংখ্যা এখনো অনেক গুণ বাড়ানোর প্রয়োজন । এছাড়া বন্য বিষয়গুলো যে সকল আইন দ্বারা পরিচালিত হয় তাও সংশোধনের প্রয়োজন আছে।

এ বিষয়ে গবেষকগণ বলছেন এই সব অপরাধের মূল হোতা গণ এখনো আইনের ধরাছোঁয়ার বাইরে এবং যারাও ধরা পড়ছে তারা আইনের ফাঁকফোকর দ্বারা বেরিয়ে পুনরায় একই অপরাধে জড়িত হয়ে পড়ছে । যার ফলে কোনোভাবেই থামানো সম্ভব হচ্ছে না এ সকল অপতৎপরতা । আর এ সকল অপরাধ দমনের জন্য প্রয়োজন সঠিক আইন প্রয়োগ ও সরকারের সদিচ্ছা ।

ট্যাগ

আরও পড়তে পারেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *